যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লস কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে বাকিংহাম প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করবেন।
রাজার আমন্ত্রণ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই বার্নহ্যাম আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ব্রিটিশ সাংবিধানিক ঐতিহ্যে এই প্রক্রিয়াটি ‘কিসিং হ্যান্ডস’ নামে পরিচিত। এরপর তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই লেবার পার্টির অন্যতম পরিচিত নেতা। ২০১৭ সালে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র নির্বাচিত হন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকার কারণে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবারও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ফিরে আসেন।
গত ২২ জুন বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলে লেবার পার্টিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় নেতা নির্বাচিত হন।
যুক্তরাজ্যের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিবর্তন হলে নতুন করে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক নয়। ক্ষমতাসীন দলের নতুন নেতা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন ধরে রাখতে পারলে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।
এই কারণেই সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। বর্তমান মেয়াদ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর যুক্তরাজ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে হওয়ার কথা রয়েছে।